Saturday, April 20, 2024
Homeঅর্থনীতিকরোনার পরে কমছে রেমিট্যান্স প্রবাহ

করোনার পরে কমছে রেমিট্যান্স প্রবাহ

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম রেমিট্যান্স। মহামারি করোনার সময়ে রেমিট্যান্স বাড়ার প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। তবে করোনার পরে বিশ্বব্যাপী চলাচল আবার স্বাভাবিক হওয়ায় কমতে শুরু করেছে রেমিট্যান্স।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার সময়ে অর্থ পাঠাতে আনুষ্ঠানিক চ্যানেল ব্যবহার করতে সবাই বাধ্য ছিল। সেসময় ব্যাংকিং তথা আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের বাইরে অন্য সবকিছু বন্ধ ছিল। এজন্য সেসময় রেমিট্যান্স বাড়ছিল। অন্যদিকে করোনার পরে লকডাউন উঠে যাওয়া বা আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় অনানুষ্ঠানিক মাধ্যম ব্যবহার করছেন বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এছাড়া করোনার কারণে গত এক বছরে অনেক কর্মী বিদেশে যেতে পারেনি। যা রেমিট্যান্সের উপর প্রভাব ফেলেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক কমেছে ২০ শতাংশ। মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যেও অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ (২৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। ওই অঙ্ক ছিল আগের বছরের চেয়ে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বা ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ১৬৪ কোটি ৭০ লাখ (এক দশমিক ৬৪ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে) যার পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। যা গত দেড় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন আয়। এর আগে গত বছরের মে মাসের পরে এক মাসে এত কম রেমিট্যান্স আর আসেনি। ওই মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৫০ কোটি ৪৬ লাখ মার্কিন ডলার।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, করোনার সময়ে প্রবাসীরা তাদের সঞ্চয় দেশে পাঠিয়েছেন। ওই সময়ে যারা কাজ হারিয়েছেন তারা তাদের সমস্ত উপার্জন একসঙ্গে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তবে সেটা ছিল এককালীন। বর্তমানে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। করোনার সময়ে দেশ থেকে বিদেশে কোন কর্মী যেতে পারেনি। সময় মিলিয়ে রেমিট্যান্স কমেছে। তবে করোনার পরে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসা কমে অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার হচ্ছে বলে আশঙ্কার কথা জানান তিনি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বেশি ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular