Monday, June 24, 2024
Homeফিচারসিন্ডিকেট লালন করে কারা

সিন্ডিকেট লালন করে কারা

কাঁচাবাজারের ভোক্তা কারা? যদি এর উত্তর হয় ক্রেতাসাধারণ, তা হলে তারা কেন ন্যায়সঙ্গত দামে নিত্যপণ্য কিনতে পারছেন না? এর একটিই উত্তর হতে পারে। তা হলো ক্রেতারা আজ আর ভোক্তার শ্রেণিতে নেই। তারা আজ বিক্রেতাদের ভোগে পরিণত হয়েছেন। কেমন হাস্যকর মনে হচ্ছে না কথাটায়? ঠিক সেটিই। একজন ক্রেতা বেতন পেয়ে বাজারে গিয়ে যেসব পণ্য কিনেছেন, এতে তার পকেট শূন্য হয়ে গেছে (পড়ুন, আমাদের সময়,মার্চ ১২,২২)। এই যদি অবস্থা হয় রাজধানীর গরিব এলাকার কাঁচাবাজারের নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার সামগ্রিক অবস্থা, তা হলে কি আমরা বলব না আজ ক্রেতারাই ভোগের সামগ্রীতে পরিণত হয়েছে?

এক মাস ধরেই চলছে খোলাবাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর কারসাজি। কারা ওই কারসাজির হোতা, তা আমরা জানি না। কিন্তু ক্রেতারাই হচ্ছেন নাস্তানাবুদ ওই দাম বাড়ার চাপে। প্রায় প্রতিদিনই একটু করে বেড়েছে বা বাড়ানো হয়েছে ভোজ্যতেল থেকে শুরু করে চাল-ডাল, পেঁয়াজ, চিনি ও শাকসবজির দাম। বেড়ে চলা দামের লাগাম টেনে ধরার যেন কেউ নেই। অবশ্য সরকারের তরফ থেকে কাঁচাবাজারের পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য মনিটরিংব্যবস্থা চালু করেও কোনো সুফল পায়নি। টিসিবির মাধ্যমে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নিত্যপণ্য বিক্রি করে খোলাবাজারের দাম বাড়ার লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এতেও থামেনি। কেন টিসিবির এই পণ্য বিক্রির পরও কাঁচাবাজারে অমন দামড়া ঘোড়ার আচরণ, এর অন্তনির্হিত কারণ আমরা বুঝতে পারছি না। সাদা চোখে আমরা কেবল এটুকু বলছি যে, সামনে রোজা (এপ্রিলের ৫ তারিখ থেকে)। তাই অস্থির ব্যবসায়ীর লোভের চিত্ত।

আমাদের দেশে ৩০-৪০ বছর ধরেই আমরা দেখে আসছি ধর্মীয় উৎসব ও রোজা-রমজান আসার আলামত আমরা বুঝতে পারি কাঁচাবাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি দেখেই। রোজা শুরুর এক মাস আগে থেকেই এ রেসের ঘোড়া ওপরের দিকে উঠতে থাকে। রোজা বা ঈদ উৎসবের পর দাম কমবে বলে আমরা মনে করলেও তা কখনই কমতে দেখিনি আমরা। ততদিনে ক্রেতাদের মন সহনশীল হয়ে যায়। পণ্যের দাম আর কমে না। এভাবেই চলে আসছে। সরকারের পক্ষ থেকে নানাভাবে দাম স্থিতিশীল রাখার আয়োজন থাকে। ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করে পণ্যের দাম নির্ধারণ করে বলা হয় খোলাবাজারে যেন ওই নির্ধারিত দামে বিক্রি করা হয়। ক্রেতা কাঁচাবাজারে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের কথা বললে তাদের সোজা উত্তর- ‘সরকারের কাছে থেকে কেনেন গিয়ে।’

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular