Sunday, May 19, 2024
Homeঅর্থনীতিসাড়া কম, তবু সব পক্ষ বিনিয়োগ চায়

সাড়া কম, তবু সব পক্ষ বিনিয়োগ চায়

শেয়ারবাজারে কালো টাকা সাদা করার সুযোগে তেমন সাড়া নেই। তার পরও সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডার শেয়ারবাজারে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ চান। এমনকি তারা আরও বেশি সুযোগ চান এ ক্ষেত্রে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) নেতারা এসব দাবি করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর আগে একাধিকবার এ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু তেমন কোনো সুফল আসেনি। ফলে এ ব্যাপারে সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

সূত্র জানিয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) মাত্র ১৩ জন বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগ করেন। সব মিলিয়ে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৫০ লাখ টাকা।

বিএমবিএর সভাপতি ছায়েদুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, বিনিয়োগ কমে যাওয়াটাই তো স্বাভাবিক। নিয়মিত আয়করের অতিরিক্ত জরিমানা দিয়ে কেউ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে আসবে না। গতবার বিশেষ সুযোগ দেওয়ায় বিনিয়োগ বেড়েছিল। এবার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় কালো টাকার অপব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হবে।

আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৫ শতাংশ কর দিয়ে পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ চেয়েছে কিছু প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে দেশের দুই শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন। এসব সংস্থার যুক্তি তিনটি। বিনা প্রশ্নে পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দিলে বাজার যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনই সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। পাশাপাশি অর্থ পাচারও কমবে। বর্তমানে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ কর পরিশোধ করে কালো টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা যায়। আগামী ৩০ জুন এই সুবিধার মেয়াদ শেষ হবে। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা এই সুবিধা কমপক্ষে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করেছেন। একই সঙ্গে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার আরও সাড়ে ৭ শতাংশ কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে আলোচনায় বিএমবিএর সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান বলেন, ‘শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর করপোরেট করহার ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ; কিন্তু এই করহারেও অনেক ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহী হচ্ছে না। অথচ বাজারে মৌলভিত্তিসম্পন্ন ভালো কোম্পানির যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তাই কর কমানো জরুরি।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ঢালাওভাবে সুযোগ দেওয়ার পরও এই চিত্র আশাব্যঞ্জক নয়। কালো টাকার মালিকরা বিদেশে পাচার করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সরকারের উচিত হবে এ সুযোগ না দিয়ে বরং চাঁদাবাজি, ঘুষের মতো কালো টাকার উৎসগুলো বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে মূল সমস্যা বিনিয়োগকারীদের আস্থাসংকট। এই সংকট কাটাতে পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি ভালো কোম্পানির শেয়ার নিয়ে আসতে হবে।

জানা গেছে, সব সরকারের আমলেই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে; কিন্তু ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল ছাড়া আর কোনো সরকারের সময় কালো টাকা সাদা করায় খুব বেশি সাড়া পাওয়া যায়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি ৩২ হাজার ৫৫৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নিয়েছিল। এর পর গত ২০২০-২১ অর্থবছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৮৯ করদাতা কালো টাকা সাদা করেছিলেন। তাতে ওই বছর ২০ হাজার কোটি টাকা সাদা হয়েছিল।

স্বাধীনতার পর থেকে নানাভাবেই কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়। মূলত কালো টাকাকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে এ সুযোগ দেওয়া হয়। ১৯৭১-৭৫ সাল পর্যন্ত ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা সাদা করা হয়। ওই সময়ে সরকার এ থেকে মাত্র ১৯ লাখ টাকা আয়কর পায়। পরবর্তীকালে এ সুবিধা বহাল থাকায় প্রতিবছরই কালো টাকা সাদা করার পরিমাণ বাড়তে থাকে।

১৯৭৬-’৮০ সাল পর্যন্ত ৫০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা সাদা করা হয়, সরকার আয়কর পায় ৮১ লাখ টাকা। ’৮১-’৯০ পর্যন্ত ৪৫ কোটি টাকা সাদা হয়, সরকার আয়কর পায় ৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ’৯১-’৯৬ পর্যন্ত ১৫০ কোটি টাকা সাদা হয়, আয়কর আদায় হয় ১৫ কোটি টাকা। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ৩২ হাজার ৫৫৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নিয়েছিল। এতে বৈধ হয় ৩ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা এবং সরকার রাজস্ব পায় ৬৮৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular