ইউক্রেনে শুরু হয়ে গেছে রুশ আগ্রাসন

0
131

যুক্তরাজ্য দাবি করেছে, তাদের কাছে যে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে, এতে স্পষ্ট যে, রাশিয়া এরই মধ্যে ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এক মুখপাত্রের বরাতে গতকাল এ খবর দেয় বিবিসি।

একই দিন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছেন, সব লক্ষণ ইঙ্গিত এই করছে যে, রাশিয়া ইউক্রেনে সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করল বলে। তবে কূটনীতি মস্কোকে এগিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারবে কিনা, তা দেখতে ওয়াশিংটন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিটি সুযোগের ব্যবহার করবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে এও জানিয়েছে যে, আজভ সাগরে বিমান ওড়াওড়িতে যে নিষেধাজ্ঞার কথা সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল মস্কো, গতকাল থেকে তা কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে তারা। এ থেকেও রাশিয়ার আগ্রাসনমুখিতার ছাপ বোঝা যায়। তবে পশ্চিমাদের সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে রাশিয়া বারবার বলে আসছে, ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসনের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। অবশ্য প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, ইউক্রেন সীমান্তে তবে কেন লাখ দেড়েক সৈন্য মোতায়েন করে রেখেছে রাশিয়া? কিংবা নিয়মিত মহড়ার পর বেলারুশ থেকে কেন হাজার ত্রিশেক সেনা সরিয়ে নিল না মস্কো?

যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোয় ইউক্রেনের সম্ভাব্য সদস্যপদ বাতিল করার দাবিতে ক্রেমলিন সরব। কিন্তু পশ্চিমারা চান, ইউক্রেনকে ন্যাটোয় নিতে। এই নিয়ে দ্বন্দ্বের শুরু।

এখন পূর্ব ইউক্রেনে রুশপন্থিদের ওপর ইউক্রেনের সামরিক অভিযানের ধোয়া তুলে রাশিয়া আগ্রাসন শুরু করছে বলে অভিযোগ করছে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এবং এদের মিত্র পক্ষগুলো। কিন্তু পূর্ব ইউক্রেনের স্বঘোষিত দুই প্রজাতন্ত্রের নেতাদের দাবি, ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের ওপর হামলা করছে। এখন তারাও পাল্টা হামলা করছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরই মধ্যে দেড় হাজারের বেশিবার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে ওই অঞ্চলে।

ইউক্রেনে যেমন দাবি করেছে, বিদ্রোহীদের হামলায় তাদের দুই সেনা মারা গেছে। উল্টো এখন রুশপন্থি বিদ্রোহীরা দাবি করছে, ইউক্রেনীয় গোলায় সেখানে দুজন নিহত হয়েছেন।

ইউক্রেন থেকে ছোড়া গোলার আঘাতে সীমান্তে রাশিয়ার একটি সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি মস্কোর। পূর্ব ইউক্রেনে চলমান সংঘাত ঘিরে পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র উদ্বেগের মাঝে সোমবার এ ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এফবিএস) সদস্যরা সীমান্তের ওই স্থাপনা ব্যবহার করতেন। স্থাপনাটি রোস্তভ অঞ্চলে রুশ-ইউক্রেন সীমান্তের ১৫০ মিটার এলাকার মধ্যে অবস্থিত ছিল। তবে ইউক্রেন বলছে, এ পুরোপুরি মিথ্যা কথা। এ ধরনের কোনো হামলার পরিকল্পনাও তাদের নেই বলে দাবি কিয়েভের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here