যৌতুক না পেয়ে হাত-পা বেঁধে মাথা ন্যাড়া করে গৃহবধূকে নির্যাতন

0
128

লক্ষ্মীপুরে যৌতুক না পেয়ে এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে মাথা ন্যাড়া করে নির্মম নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের ১৫ ঘণ্টা পর ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনরা উদ্ধার করলেও এ ঘটনায় এখনো কোন মামলা হয়নি। এমনকি আটকও হয়নি কেউ। বর্তমানে ওই গৃহবধূ শশুরবাড়ি এলাকায় এক প্রতিবেশীর ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী, ভিকটিম নারী ও তার পরিবারের সদস্যরা জানায়, সাড়ে ৩ বছর আগে ভোলার ইলিশা এলাকার বাসিন্দা আলমগীরের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় লক্ষ্মীপুর সদরের চরমনি মোহন এলাকার বাসিন্দা কাঞ্চন মাঝির ছেলে মো. হাসানের। বিয়ের কিছুদিন অতিবাহিত হলেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। কিন্তু তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ওই গৃহবধূর ওপর বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন শাশুড়ি, ননদ ও তার স্বামী হাসান।

দরিদ্র বাবার যৌতুকের টাকা দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় নীরবে সব নির্যাতন সহ্য করে আসছিলেন ওই গৃহবধূ। গত রোববার রাতে দাবিকৃত তিন লাখ টাকা না দেওয়ায় স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ তাকে হাত-পা বেঁধে ব্লেড দিয়ে মাথা ন্যাড়া করে ঘরে আটক করে রাখে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ওই নারী।

পরে স্বামীর বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলে কৌশলে আত্মীয়-স্বজনদের কাছে বিষয়টি জানান তিনি। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির হোসেন সজিবসহ এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও তার স্বজনরা।

এদিকে, যৌতুক দাবিতে মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতনের ঘটনা অস্বীকার করেছেন ভুক্তভোগীর ননদ পাখি বেগম। তিনি বলেন, পারিবারিক কলহের কারণে তার স্বামী চুল কেটে দেয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির হোসেন সজিব বলেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে গৃহবধূকে মাথা ন্যাড়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন মুঠোফোনে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here