ডিআইজি মিজানের ৩, বাছিরের ৮ বছর কারাদণ্ড

0
124

ঘুষ দেওয়া-নেওয়ার মামলায় পুলিশের বরখাস্ত ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের তিন বছর এবং দুদকের বরখাস্ত পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের আট বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

ঘুষ গ্রহণের মামলায় এনামুল বাছিরকে তিন বছর এবং মানিলন্ডারিং আইনের মামলায় আরও পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং ৮০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ডের ৮০ লাখ টাকা তাকে ৬ মাসের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তাকে আরও ৬ মাস কারাভোগ করতে হবে। দুই ধারা সাজা তার একত্রে চলবে। এজন্য তাকে ৫ বছর সাজাভোগ করতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করেন বিচারক।

রায় ঘোষণার আগে আসামি বাছির ও মিজানকে আদালতে হাজির করা হয়। তারা আসামির কাঠগড়ায় বসা ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে এদিন বেলা ১১টা ১৩ মিনিটে আদালত রায় পড়া শুরু করেন। ১০৯ পৃষ্ঠার রায় পড়ে ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে আদালত দণ্ড ঘোষণা করেন। এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের এ তারিখ ধার্য করেন আদালত।

গত ২৪ জানুয়ারি দুদকের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনে উভয় আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর মোশারফ হোসেন কাজল।

এরপর গত ৩ ফেব্রুয়ারি আসামি পুলিশের ডিআইজি (বরখাস্ত) মিজানুর রহমানের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী যুক্তি উপস্থাপন করে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং বাধ্য হয়ে ঘুষ দেওয়া অপরাধ নয় বলে দাবি করে খালাস প্রার্থণা করেন। এরপর গত ৬ ফেব্রুয়ারি এবং গতকাল বৃহস্পতিবার সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সেয়দ রেজাউর রহমান আসামি বাছিরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনে বাছির কোন ঘুষ নেননি এবং তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার উল্লেখ করে খালাস দাবি করেন। এর আগে মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৭ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

মামলাটিতে আসামিদের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৮ মার্চ অভিযোগ গঠন করেন আদালত। একই বছরের ১৪ জানুয়ারি অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। ওই বছর ১৯ আগস্ট শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ।

মামলার চার্জশিটে বলা হয়, দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে ডিআইজি মিজানের জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধানকারী করছিলেন। অনুসন্ধানচলাকালে ২০১৯ সালের ৯ জুন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় সাংবাদ প্রকাশিত হয় যে, ডিআইজি মিজান অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টে এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ/ উৎকোচ দিয়েছেন। তৎক্ষনিক দুদক একটি তদন্ত কমিটি করে তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পায়। এরপর এ সংক্রান্তে তিন সদস্যের অনুসন্ধান কমিটিও ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় মামলাটি রজু করা হয়।

চার্জশিটে আরও বলা হয়, মামলার তদন্তকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং এনটিএমসি হতে প্রাপ্ত বিশেজ্ঞ বিশ্লেষণে প্রতিয়মান হয়, ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি ও ২৫ ফেব্রুয়ারি ডিআইজি মিজান একটি বাজারের ব্যাগে কিছু বইসহ যথাক্রমে ২৫ লাখ টাকা ও ১৫ লাখ টাকা রমনা পার্কে এনামুল বাছিরকে দুই দফায় প্রদান করেন। যার চাক্ষুস সাক্ষী আসামি মিজানের দেহরক্ষী হৃদয় হাসান ও অর্ডারলি মো. সাদ্দাম হোসেন।

এ ছাড়া মিজান ও বাছিরের মুঠোফোনের কথোপকথন পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাছির তার ছেলেকে কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল থেকে আনা নেওয়ার জন্য মিজানের কাছে একটি গাড়িও দাবি করেন। যা তিনি দুদকের বিভাগীয় তদন্ত টিমের কাছে স্বীকারও করেছেন।

চার্জশিটে বলা হয়, আসামি মিজান ও বাছির অবৈধভাবে দুটি পৃথক সিম ব্যবহার করে একে অপরের মধ্যে কথোপকথনসহ ক্ষুদেবার্তা আদান-প্রদান করেছেন। সিম দুটি হেদরক্ষী হৃদয় হাসান ও অর্ডারলি সাদ্দামের নাম ক্রয় করা। হৃদয়ের নামে কেনা সিমটি মিজান বাছিরকে একটি সামসাং মোবাইলসহ প্রদান করেন। এবং সাদ্দামের নামে কেনা সিমটি নিজে বাছিরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য গোপনে ব্যবহার করেন। নম্বরগুলো থেকে মিজান বিভিন্ন সময় ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে বাছিরের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন মর্মে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তদন্তে আরও প্রমাণিত হয় যে, মিজান অসৎ উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বাছিরের সঙ্গে ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথন রেকর্ড করে সংরক্ষণ করেন এবং পরবর্তী সময়ে তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করেন। মিজান নিজে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ থেকে বাঁচার জন্যই অসৎ উদ্দেশ্যে বাছিরকে ঘুষ প্রদান করে প্রভাবিত করেন। আর বাছির সরকারী কর্মকর্তা হয়েও তার উপর অর্পিত দায়িত্বপালনকালে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য ঘুষ গ্রহণ করে গোপন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here