দুই দশকেরও বেশি সময় চীনের কারাগারে থাকা তিব্বতীয় সন্ন্যাসীর মৃত্যু

0
35

দুই দশকেরও বেশি সময় চীনের কারাগারে থাকা একজন তিব্বতীয় সন্ন্যাসী ৬১ বছর বয়সে মারা গেছেন। রেডিও ফ্রি এশিয়া (আরএফএ) জানিয়েছে, দালাই লামা এবং তিব্বতের স্বাধীনতার সমর্থনে ১৯৮৭ সালে রাস্তায় নামা লাসার ড্রেপুং মঠের ২১ সন্ন্যাসীর মধ্যে এনগাওয়াং গ্যালস্টেন ছিলেন একজন, যিনি গত সোমবার মারা গেছেন।

১৯৮৭ সালে ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় গ্যালস্টেনকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা নষ্টের’ জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং এরপর থেকে ২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে কারাগারে বন্দিজীবন কাটাতে হয়েছিল।

১৯৮৭ সালে বিদ্রোহে অংশ নেওয়া আরেক সন্ন্যাসী এনগাওয়াং উয়েবার আরএফএকে বলেছেন, ‌‘আরেকজন রাজনৈতিক বন্দির মৃত্যুর কথা শোনাটা খুব হৃদয়বিদারক। আমাদের অবশ্যই প্রার্থনা করতে হবে। তার মৃত্যুর বিষয়টি প্রবাসে থাকা তিব্বতি যুবকদের, তিব্বতের অভ্যন্তরে আমাদের ভাই ও বোনদের সাহস, সংকল্প এবং আকাঙ্ক্ষা অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে।’

এনগাওয়াং গ্যাল্টসেন তিব্বতে চীনের নিপীড়নমূলক নীতির বিরুদ্ধে সারাজীবন কথা বলে গেছেন। ১৯৮৭ সালের বিদ্রোহের পর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে (চীনা কমিউনিস্ট পার্টি) শাসনের প্রতিবাদ করেছিলেন এবং তিব্বতের জন্য তার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

আরএফএ জানিয়েছে, গ্যালস্টেন মুক্তির পর নাগচু কাউন্টির (চীনা নাকুতে) শাগ রংপো গাদেন দারগ্যালিং মঠে প্রবেশ করেন, যেখানে তাকে শৈশবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। তিনি একজন সুপরিচিত শিল্পী ছিলেন যিনি থাংকা পেইন্টিং অধ্যয়ন করেছিলেন এবং তিনি ধর্মীয় নৃত্যে পারদর্শী ছিলেন।

আরএফএ আরও জানায়, সেই মঠে অবস্থিত চীনা সরকারি কর্মকর্তাদের দ্বারা আরোপিত একটি পুনঃশিক্ষা প্রচারকে প্রতিরোধ করেছিলেন গ্যালস্টেন। তারা ভিক্ষুদের দালাই লামা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তিব্বতি বৌদ্ধ ব্যক্তিত্বদের নিন্দা করতে চেয়েছিল। পরে কর্তৃপক্ষ তাকে মঠ ত্যাগ করতে বাধ্য করেছিল। এমনকি তার চলাফেরায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল এবং তিনি কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন সেটাও ঠিক করে দেওয়া হয়েছিল।

একটি সূত্র আরএফএকে জানিয়েছে, ২০১৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে পুলিশ ফের ধরে নিয়ে গিয়েছিল গ্যালস্টেনকে। পরে অজানা অভিযোগে তার বিচার করা হয়েছিল এবং তাকে তিন বছরের সাজা দিয়ে তিব্বতের আঞ্চলিক রাজধানী লাসার ড্রাপচি কারাগারে পাঠানো হয়। ২০১৯ সালে মুক্তির তার মুক্তির পর ফ্রি তিব্বত এ কথা জানিয়েছিল।

তিব্বত পূর্বে একটি স্বাধীন দেশ ছিল যেটি আজ থেকে ৭০ বছর আগে জোরপূর্বক দখল করে চীন। পশ্চিম চীনের তিব্বত এবং তিব্বত অঞ্চলে বসবাসকারী তিব্বতিরা প্রায়শই বৈষম্য এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন। তারা বলেন যে বেইজিং তাদের জাতীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় মুছে ফেলার লক্ষ্যে আক্রমণাত্মক নীতি অনুসরণ করছে। সূত্র : এএনআই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here