কিয়েভ অভিমুখে ৪০ মাইল দীর্ঘ রুশ সেনাবহর

0
159

ইউক্রেনে রুশ হামলা বন্ধ নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও যুদ্ধ থেমে নেই। বরং স্যাটেলাইট চিত্রে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের দিকে রাশিয়ার বিশাল সেনাবহর এগিয়ে যেতে দেখা গেছে। আজ মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ৪০ মাইল দীর্ঘ সেনাবহরটি কিয়েভ অভিমুখে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি মহাকাশ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান মাক্সার টেকনোলজিস দাবি করেছে, কিয়েভের উত্তরে সেনাসমাবেশ ক্রমাগত বাড়িয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। সেখানে রুশ সেনাবাহিনীর প্রায় ৪০ মাইল দীর্ঘ একটি বহর জড়ো হয়েছে।

স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার স্যাটেলাইটে এমন চিত্র ধরা পড়েছে বলে দাবি করেছে মাক্সার। এর একদিন আগে বলা হয়েছিল, রুশ সেনাবহরটি ১৭ মাইল দীর্ঘ।

মাক্সার টেকনোলজিস আরও বলেছে, বেলারুশের দক্ষিণাঞ্চলে অতিরিক্ত স্থলসেনা মোতায়েন করা হয়েছে। বোমা ফেলার কাজে ব্যবহৃত হেলিকপ্টার ইউনিটও মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে সেখানে। ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ২০ মাইলেরও কম দূরত্বে বেলারুশের ওই এলাকার অবস্থান।

মাক্সারের স্যাটেলাইট চিত্রের বরাতে রয়টার্সের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তোনভ বিমানবন্দর এলাকার পূর্ব প্রান্তে শত শত সাঁজোয়া যান, ট্যাংক, কামান ও সরঞ্জাম বহনকারী যানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। মাক্সার প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, সামরিক যানগুলো ৩ দশমিক ২৫ মাইলেরও বেশি দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করছে।

স্যাটেলাইট চিত্রে আরও দেখা গেছে, সাম্প্রতিক বিমান হামলায় আন্তোনভ বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমানবন্দরের কাছে তুমুল লড়াই হয়েছে।

কয়েক সপ্তাহ ধরেই স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ করে ইউক্রেন সীমান্তে রুশ সেনাসমাবেশ শনাক্ত করার দাবি করে আসছে মাক্সার। তবে এ ছবিগুলোর সত্যতা যাচাই করা যায়নি বলে উল্লেখ করেছে রয়টার্স।

এদিকে, কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে হামলা অব্যাহত রেখেছেন রাশিয়ার সেনারা। এর মধ্যেই গতকাল ইউক্রেন-বেলারুশ সীমান্তে আলোচনায় বসেছিলেন রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা। ইউক্রেন হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল তারা। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে হামলা চালানোর নির্দেশ দেন। এরপর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রুশ বাহিনী। ধ্বংস করে বিভিন্ন বিমানঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। হামলা থেকে বাঁচতে ইউক্রেন থেকে পালাচ্ছে লাখো মানুষ। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here