‘আমি গুলি খাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি’

0
147

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো এবং মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এ সময় নিজে গুলি খাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন বলেও জানান তিনি। আজ শনিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘এখানে যারা পুলিশ প্রশাসনের লোকজন আছেন, হয়তোবা তারাও আমাদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে এসেছেন। কারণ আমাদের দাবিটা একটা মৌলিক বিষয়, এর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে হবে। ঘুষ, দুর্নীতি আছে। সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পুলিশের নাম বেশি শোনা যায়। তারপরও কয়জন পুলিশ ঘুষ পায় বা খায়? ৯৭ ভাগ পুলিশই ঘুষ পান না। এই পুলিশের লোকজন বাজারে গেলে তাদের কাছ থেকে কম নেয় না। এমন তো না আমার কাছ থেকে বেশি নেয়, পুলিশের কাছ থেকে কম নেয়। সরকারকে বলব, মানুষ অভাবের কথা বলবে, তার সুযোগ কেন থাকবে না?’

এর আগে নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার রাতে সমাবেশের জন্য জিনজিনরা পার্টি অফিসের পাশে একটি মঞ্চ করলে তা ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে ভেঙ্গে দেয়। এ সময় সেখানে আমার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা নেতাকর্মীদেরও মারধর করা হয়। এতে ২৫ জনের মতো নেতাকর্মী আহত হয়। খবর পেয়ে রাত ১টার দিকে ঘটনাস্থলে ছুটে যান আমাদের নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। রাতভর জিনজিনরা পার্টি অফিসে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান করেন তিনি। ’

কেরানীগঞ্জের সেই ঘটনা তুলে ধরে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সুস্থভাবে আমরা রাজনীতি করতে চাই। কেরানীগঞ্জের মানুষগুলো একসঙ্গে বসবাস করতে চাই। আমরা হিন্দু সম্প্রদায় যেমন পূজার সময় পূজা করি, তেমনি মুসলমানরা নামাজের সময় নামাজ পড়ে। রাজনীতিতেও আওয়ামী লীগের কথা থাকলে মিটিং করবে, আমাদের সমালোচনা করবে। আমরা তার প্রতি উত্তর দিবো আরেকটি সভা করে। কিন্তু কারও সভা ভেঙ্গে নয়। ’

এ সময় স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মরিনি। ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বরের হামলায়ও মরিনি। যারা এই হামলা করে তাদের দেখাতে চাই, মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করলে মানুষ সম্মান করে। মানুষ একবারই মরে। আজকে এই কেরানীগঞ্জে এসেছি মরার জন্য। আওয়ামী লীগ লোকজন অথবা পুলিশেরও কারও কারও খায়েশ থাকে শার্টের বোতামগুলো খুলে দিচ্ছি। সরকারকে বলব, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমান, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিন। আমি গুলি খাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। ’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘গণমাধ্যমসহ সবাই বলে বাংলাদেশ থেকে মাত্র ১০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এই টাকা যদি পাচার না হতো, বাংলাদেশে বিনিয়োগ হতো। তাহলে অনেক শিল্পকলকারখানা হতো, কর্মসংস্থান হতো। আমাদের চাহিদা পূরণের পরও বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারতাম। আমাদের যুবক ভাইদের বৈধ অথবা অবৈধ উপায়ে বিদেশে যেতে হতো না। ভূমধ্যসাগরে পানিতে ডুবে মরতে হতো না। ’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here