ট্রেনের টিকিট বিক্রির সিস্টেম বিপর্যস্ত

0
164

মুরাদ হোসেন লিটন :

ট্রেনে যাত্রীটিকিট বিক্রির সিস্টেম ভেঙে গেছে। অপারেটরের ভুলে লোকসান গুনছে রেল। চার দিনে কেবল ঢাকাতেই ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা গচ্চা দিতে হয়েছে রেলকে। সারাদেশের হিসাব এখনো মেলেনি। অপারেটরের সিস্টেমের ফাঁদে পড়ে যাত্রীদের অবস্থা নাকাল। তারা টিকিটের গায়ে লেখা ত্রুটির কারণে সকালের ট্রেনে সন্ধ্যায় স্টেশনে এসে ট্রেন মিস করছেন। আবার একই আসনে ডাবল টিকিট নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে গ-গোল হয়েছে। টিকিটের গায়ে ভাড়ার ভুল অঙ্ক উল্লেখ থাকায় অনেকটা বিনে পয়সায় ট্রেনে চড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এসব কারিগরি ত্রুটি কবে সারবে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাছে তার সদুত্তর নেই। এমন লেজেগোবরে অবস্থায় যাত্রীরা আশা করেছিলেন রেলমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্টেশন পরিদর্শন করে ঘটনার বিস্তারিত জেনে পদক্ষেপ নেবেন। কিন্তু তা হয়নি। কারণ দুর্ভোগ শুরুর দুই দিনের মাথায় মন্ত্রী-সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিদেশ সফরে গেছেন। সূত্রমতে, আগের প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হস্তান্তরের ৫ দিন পর টিকিট বিক্রির দায়িত্ব নেয় ‘সহজ লিমিটেড’। ২৫ মার্চ ৭৭ স্টেশনের কাউন্টার এবং পরের দিন অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু প্রথম দিন থেকেই যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রতিটি টিকিট ইস্যুতে চার-পাঁচ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগায় স্টেশনে হাজারও মানুষের ভিড় সৃষ্টি হয়। অনলাইনেও প্রবেশ করা যাচ্ছিল না। পরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো বহু যাত্রী অভিযোগ করেছেন- অনলাইনে
নিবন্ধন এবং টিকিট কাটতে নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে। নিবন্ধনে ওটিপি এলে তা দিয়ে পরের ধাপে যাওয়া যাচ্ছে না। কেউবা ওটিপি না পেয়ে একাধিকবার চেষ্টা করে নিবন্ধন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। টাকা কেটে নিলেও অনেকে টিকিট পাচ্ছেন না। আবার সেই টাকা কোথায় যাচ্ছে তাও স্পষ্ট নয়। তা ছাড়া টিকিটে যাত্রার সময় ও ভাড়ার পরিমাণ ভুল হচ্ছে। এতে একদিকে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্যদিকে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রেলওয়ের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের বিরুদ্ধে জরিমানার সুযোগ থাকলেও থোরাই তোয়াক্কা করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। বরং রেলওয়ের এ সংক্রান্ত চিঠির দায়সারা জবাব দিয়েছে তিন দিন পর। মাত্র ২১ দিনের মাথায় ১৫ বছরের পুরনো সিস্টেম পরিবর্তনের কাজটি কঠিন উল্লেখ করে দায় এড়িয়ে যাচ্ছে সহজ লিমিটেড। আর স্টেশনে টিকিট বিক্রির সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা বলছেন, অপারেটরের চাওয়া সময় অনুযায়ী তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে। তাই ত্রুটিপূর্ণ সেবার দায় এড়াতে পারে না অপারেটর। সারাদেশে আন্তঃনগর ট্রেন রয়েছে ১০৪টিÑ এর মধ্যে ৫০টি পূর্বাঞ্চলে আর পশ্চিমাঞ্চলে ৫৪টি। তা ছাড়া মেইল ১২৭টি, লোকাল ১২০টি। সব মিলিয়ে ১৫৯টি ট্রেন রয়েছে।
দেখা গেছে, নতুন অপারেটরের ভুলে কেবল ঢাকাতেই চার দিনে রেলের লোকসান ৫ লাখ ২৫ হাজার ২৫০ টাকা। টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেনে ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পর্যন্ত ট্রেন সিস্টেমে কোনো টিকিট ইস্যু হয়নি। এতে করে দিনে ৭১ হাজার ৯১৫ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে রেল। একতা এক্সপ্রেসে ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জের মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত আসন সফটওয়্যারে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এর মধ্যে শোভন চেয়ার ৫১ থেকে ৬০ পর্যন্ত ১০টি সিট। ২২৫ টাকা করে ভাড়া ধরলে ৪ দিনে লোকসান ৯ হাজার টাকা। এ রকম অগ্নিবীণায় ঢাকা-সরিষাবাড়ি ঠ বগির শোভন ২৫টি বাদ পড়েছে সফটওয়্যারে। আবার অগ্নিবীণার ঢাকা-তারাকান্দি এক্স-১ শোভন চেয়ারের ২১ থেকে ৩০ নম্বর আসন বেশি বিক্রি করা হয় ভুলক্রমে। এগারোসিন্ধুর ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে এক্স-১ শোভন, ঠ বগির শোভন চেয়ারে যথাক্রমে ২০টি ও ১২০টি আসন বাদ পড়ে। একইভাবে উপবন এক্সপ্রেসে এসি বগি স্নিগ্ধা ঢাকা-শায়েস্তাগঞ্জ, ঢাকা-শ্রীমঙ্গল ও ঢাকা-ভানুগাছে, ঢাকা-কুলাউড়ায় একই ঘটনা ঘটছে। ঢাকা-ফেনী রুটে মহানগর এক্সপ্রেসেও বাদ পড়ছে স্নিগ্ধা বগির আসন। একই চিত্র এগারোসিন্ধুর গোধূলী ট্রেনে; ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে। এ রকম লালমনি এক্সপ্রেসে ঢাকা-জয়দেবপুর, সিল্কসিটিতে ঢাকা-আবদুল জং, ঢাকা-চাটমোহর, চাটমোহর-রাজশাহী, ঢাকা-বড়াল ব্রিজ রুটেও। এসব ট্রেনে শোভন চেয়ার ও এসি বগির বেশ কয়েকটি আসন অন্তর্ভুক্ত হয়নি। পদ্মা এক্সপ্রেসে ঢাকা-উল্লাপাড়া, নীল সাগরে ঢাকা-বিমানবন্দর রুটের শোভন চেয়ার ও এসি টিকিট বাদ পড়ে যায়। এ ছাড়া রংপুর এক্সপ্রেসে ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব গন্তব্যে এসি বগির আসন পড়েছে। বেনাপোল এক্সপ্রেসের ঢাকা দর্শনা হল্ট স্টেশন পর্যন্ত টিকিট বিক্রি করা যায়নি সহজের অন্তর্ভুক্তির অভাবে। এ ছাড়া সহজের সফটওয়্যারে কোচ অ্যাটাচমেন্ট টেম্পরারি অপশন আছে; স্থায়ী অপশন নেই। ট্রেন স্টেশন ত্যাগ করার পরও এসএমএস রিফান্ড প্রিন্ট বের হতে থাকে। এ ছাড়া ট্রেন স্টেশন ত্যাগের ৫ মিনিট আগে কোনো টিকিট বের হওয়ার কথা নয়, কিন্তু সহজের সিস্টেমে বের হচ্ছে। আরেকটি বড় সমস্যাÑ শিফট রিপোর্ট ও সেলস রিপোর্টবিষয়ক। ফলে স্টেশনে ক্যাশ জমায় অসুবিধা প্রবল। আরও অবাক ব্যাপার, স্ট্যান্ডিং টিকিট বা নন-কোটার টিকিট ইস্যুর ব্যবস্থা নেই। ফলে বিনা টিকিটে যাত্রী বাড়ছে। এতে করে রাজস্ববঞ্চিত হচ্ছে সরকার। আবার দেখা যাচ্ছে তারাকান্দি থেকে ৮০০ নম্বর ট্রেনের অনলাইন টিকিট ইস্যু হচ্ছে। অথচ ওই স্টেশন অনলাইন কোটার অন্তর্র্ভুক্ত নয়। আবার ঢাকা-তারাকান্দি শোভন চেয়ারের ভাড়া ১৯০ টাকা, অথচ প্রিন্ট হচ্ছে ১৮৫ টাকা। এতেও রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।
সূত্র জানায়, গত ২৫ মার্চ সন্ধ্যা ৬টায় সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন জেভীর মাধ্যমে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম চালু হয়েছে। কিন্তু এর পর থেকেই কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন ট্রেনের নির্ধারিত আসন অনুযায়ী টিকিট বিক্রি হচ্ছে না। এতে করে রেলওয়ের রাজস্ব ক্ষতিসহ সংস্থাটির ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। কারিগরি ত্রুটির কারণে অবিক্রীত টিকিটের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। কেবল ঢাকা বিভাগেই মাত্র চার দিনে রেলওয়ের ক্ষতি হয়েছে ৫ লাখ ২৫ হাজার ২৫০ টাকা। ফলে লাভের আশায় দেওয়া প্রতিষ্ঠানের কারিগরি ত্রুটিতে রেলকে এখন লোকসান গুনতে হচ্ছে।
জানা গেছে, ট্রেনের টিকিট সংগ্রহের ক্ষেত্রে মোটাদাগে ত্রুটি হচ্ছে, যাত্রার সময় ভুল থাকা। ধরা যাক সোনার বাংলা ট্রেন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাবে সকাল ৭টায়। সেটির যাত্রার সময় টিকিটের গায়ে লেখা সন্ধ্যা ৬টা। এ রকম অসংখ্য ভুলের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে। আবার একই আসনে একাধিক টিকিট বিক্রির অভিযোগ এসেছে। এটিও অপারেটরের ভুলক্রমে। তা ছাড়া টিকিটের গায়ে ভাড়ার পরিমাণও ভুল; ৪২০ টাকার ভাড়ার কেবল ২০ টাকা লেখা। এ ধরনের ঘটনায় রেল বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাতে বসেছে। টিকিটের গায়ে যাত্রার সময় দেখে ট্রেন মিস করার ঘটনাও এখন অহরহ। বিষয়টি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, রেলওয়ের পক্ষ থেকে সহজ লিমিটেডকে চিঠি দিয়ে এর সারাংশ তুলে ধরে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে তাগিদ দিয়েছে। কী ব্যবস্থা তাও জানাতে বলা হয়। কিন্তু সহজ এসব কমই তোয়াক্কা করছে। ২৭ মার্চ দেওয়া চিঠির জবাব দিয়েছে ৩০ মার্চ।
সহজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালিহা এম কাদিরকে দেওয়া চিঠিতে রেলওয়ে যুগ্ম পরিচালকের (অপারেশন) দায়িত্বে থাকা এএম সালাহউদ্দিন বলেছেন, গত ২৬ মার্চ অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার পরই তা বন্ধ হয়ে যায়। টিকিট ইস্যু বন্ধ হওয়া এবং পুনরায় চালুর বিষয়ে রেলওয়েকে তথ্য দেয়নি সহজ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে রেলওয়ের টিকিটিং কার্যক্রমের বিষয়ে নেতিবাচক খবর প্রকাশিত হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় রেল প্রশাসন এ বিষয়ে জবাব দিতে পারছে না। ফলে রেলওয়ে ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। এ বিষয়ে সহজ কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে চিঠিতে। তা ছাড়া অনলাইনে টিকিটিং বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ উল্লেখপূর্বক কখন তা চালু করা সম্ভব হবে সে ব্যাপারে অপারেটরকে জরুরি ভিত্তিতে অবহিত করতে অনুরোধ করে রেলওয়ে। স্টেশন টু স্টেশন ভাড়া ভুল থাকায় বিভিন্ন স্টেশনের শিফট ও ডেইলি রিপোর্টে পার্থক্য থাকার কারণে রেলওয়ের রাজস্ব আয় হারানোর আশঙ্কা রয়ে গেছে। এসব সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলো নিরসন করে প্রতিটি পদক্ষেপ ও কর্মপরিকল্পনা অবহিত করতে অনুরোধ করেছে রেলওয়ে।
সহজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালিহা এম কাদির জবাবে লিখেছেন, ৭৭টি স্টেশনে এ সেবা দিচ্ছে তারা। এর মধ্যে ৭৮টি পর্যবেক্ষণ (সমস্যা) পেয়েছেন যার মধ্যে ২৭ থেকে ৩৫ শতাংশ একই ইস্যু। ভাড়ার অসামঞ্জস্যতা, কোচের আসন বিন্যাসে জটিলতা। তবে এগুলোর সমাধানের চেষ্টা করছেন। আর স্ট্যান্ডিং টিকিট ও কমিউটার ট্রেনের ব্যাপারে তথ্য পাননি। পেলে জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করবেন। তা ছাড়া শিফট রিপোর্ট ও ডেইলি রিপোর্টের পার্থক্যের ব্যাপারেও ৩৮ থেকে ৪৮ শতাংশ পর্যবেক্ষণ পাওয়ার কথা বলছে অপারেটর। সেটি সফটওয়্যারের ত্রুটি উল্লেখ করে সমাধানের দাবি করা হয়েছে। তবে এ রকম আরও যৌক্তিক সমস্যা এলে তা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি। তা ছাড়া ভুল টিকিট এন্ট্রি, রেজিস্ট্রেশনে ওটিপি সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি মনে করেন কিছু ক্ষেত্রে জানার ঘাটতির কারণে এমনটি হচ্ছে।
এদিকে রেলওয়ের সঙ্গে করা চুক্তির শর্তে বলা আছে, ২১ দিন পর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু করবে সহজ ডটকম। তাতে ব্যর্থ হলে প্রতিদিনের জন্য পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হবে প্রতিষ্ঠানটিকে। চুক্তি অনুযায়ী ট্রেনের অনলাইন, মোবাইল ও কাউন্টারে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা পরিচালনা করবে। চুক্তির ২১ দিনের এ কাজে ব্যর্থ হলে প্রতিবারের জন্য প্রতি ঘণ্টায় দুই হাজার টাকা করে জরিমানা গুনতে হবে কোম্পানিটিকে। তবে ২৬ মার্চ থেকে টিকিট বিক্রি শুরুর পর ভোগান্তির শত শত অভিযোগ এলেও সহজ ডটকমের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সূত্রমতে, রেলওয়ের সঙ্গে সহজের চুক্তি হয়েছে টিকিট প্রতি ২৫ পয়সা পরিশোধের হিসাবে। ৫ বছরে ২০ কোটি টিকিট বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। সে হিসাবে সহজকে ৫ কোটি টাকা দেবে রেলওয়ে। অন্য ঠিকাদার স্পেক্ট্রামকে দিতে হতো ৫৮ পয়সা হিসাবে ১১ কোটি ৬০ লাখ। সিএনএসের বেলায় ১ টাকা ২০ পয়সা হারে গুনতে হতো ২৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
সহজের সঙ্গে চুক্তি প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন দাবি করেছিলেন, এতে করে ৮৪ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। কিন্তু তার সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না রেলকর্মীরা। তবে তারা বলছেন, বর্তমানে কেবল ঢাকা বিভাগে চার দিনে সোয়া ৫ লাখ টাকা গচ্চা দিলে ৫ বছরে গচ্চা দিতে হবে ২২৯ কোটি ২৬ লাখ ৫৬ হাজার ২৫০ টাকা। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হলে ভিন্ন কথা। ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, পাকশী ও লালমনিরহাট বিভাগ আছে রেলওয়েতে।
গতকাল কমলাপুরে রেলওয়ের টিকিট বিক্রিতে সম্পৃক্ত কর্মীরা বলেন, স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছেন, আগের অপারেটরের সময়েও টিকিট বিক্রিতে ত্রুটি ছিল। অনলাইনে ঢুকতে অসুবিধাসহ ভোগান্তি ছিল। এসব যন্ত্রণা থেকে কাজটি সহজ করতেই সহজ লিমিটেডকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। কিন্তু এসব সমস্যার মুক্তি মিলবে কবে তা জানা নেই। এ নিয়ে ভুক্তভোগী কয়েকজন যাত্রী বললেন, স্টেশনে স্টেশনে যাত্রী দুর্ভোগ; অথচ মন্ত্রী-সচিবসহ রেলের সিনিয়র কর্মকর্তারা নাকি বিদেশ সফরে রয়েছেন। যাত্রীদের ধারণা, চুক্তিবদ্ধ অপারেটর যে কথা কাজে মিল রাখতে পারছে না তা স্টেশনে সরেজমিন গেলে হয়তো বিশদভাবে উপলব্ধি করতে পারতেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গতকাল রেল ভবনে গিয়ে জানা যায় রেলের মহাপরিচালক ডিএন মজুমদার ঢাকার বাইরে। আর গত ২৭ মার্চ রাতে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, রেল সচিব ড. হুমায়ুন কবির ৮ সদস্যের প্রতিনিধি নিয়ে তুরস্কে গেছেন। দেশটির যোগাযোগ ও অবকাঠামোমন্ত্রী আদিল কারাইসমাইলওগলোর আমন্ত্রণে তারা সেখানে গেছেন। সফরকালে তারা পৃথক বৈঠকে তুরস্কের পরিবহন ও অবকাঠামোমন্ত্রী ছাড়াও তুরসাসের জেনারেল ম্যানেজার মুস্তাফা মেতিন ইয়াজির ও ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ইরফান ইপসির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এ সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের রোলিংস্টক, সিগন্যালিং সিস্টেমের উন্নয়নে বিনিয়োগের আহ্বান জানান রেলমন্ত্রী সুজন। তাদের এ সরকারি সফরের মধ্যে রেলমন্ত্রীর খরচ বহন করবে বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আর রেল মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তাদের ব্যয় বহন করবে নিজ নিজ মন্ত্রণালয় ও সংস্থা। তবে মন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মী আকতার, কন্যা অনামিকা ইসলাম প্রিয়ম ও মেয়ে-জামাই জোবায়ের আকতার অহির খরচ বহন করবেন মন্ত্রী। সচিব হুমায়ন কবিরের স্ত্রী রুনা লায়লার ভ্রমণ খরচ সচিব নিজেই বহন করবেন। ট্রেনের টিকিট সিস্টেমের বিদ্যমান বিপর্যস্ত দশা নিয়ে রেল মন্ত্রণালয় বা রেলওয়ের কারও বক্তব্য মেলেনি গতকাল রাতেও। তবে গতকাল সন্ধ্যায় মন্ত্রীর বিদেশ সফরের কর্মসূচি সরবরাহ করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। সেখানে মন্ত্রীর তুরস্কে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল পার্ক, মোস্তাফা কামাল আতাতুর্ক জাদুঘর পরিদর্শনের কথা জানানো হয়েছে। এ ছাড়া তার্কিশ কনট্রাকটরস অ্যাসোসিয়েশনসহ রেলওয়ের কারখানা পরিদর্শন করেছেন মন্ত্রীসহ সফরসঙ্গীরা।
এদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকায় অবস্থান করা কর্মকর্তারা টিকিটের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। টিকিটের অব্যবস্থাপনা নিয়ে বক্তব্য জানতে সহজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালিহা এম কাদিরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফরহাদ হোসেন। গত রাতে তিনি আমাদের সময়কে বলেন, ‘আগের প্রতিষ্ঠান সিএনএস একটি সিডি বুঝিয়ে দিয়েছে শেষ বেলায়। তাই বুঝতে সমস্যা হয়েছে। কিন্তু এখন সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। ৭৭টি স্টেশনে একযোগে টিকিট বিক্রি চলছে অনায়াসে। কোথাও কোনো সমস্যা হচ্ছে না। কিছু অসুবিধা ছিল তা দূর হয়ে গেছে। সিএনএস ২১ দিনের মধ্যে সফটওয়্যার বুঝিয়ে দিলে এ সমস্যা হতো না। যে সিডি দিয়েছে সেটিও ভুলভ্রান্তিতে ভরা। ট্রেনের নাম, সময় সবকিছুতে ভুল থাকায় আমরা বিভ্রান্তিতে পড়ে যাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here