পরিকল্পনাকারী মোল্লা শামীম মারুফ গোয়েন্দা জালে

0
149

রাজধানীর শাহজাহানপুরে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপুসহ জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরফান উল্লাহ দামালকে রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি পুলিশ। এ ছাড়া গ্রেপ্তার ঘাতক মাসুমের সহযোগী মোল্লা শামীম ওরফে শামীম হোসেন ও মারুফ গোয়েন্দা পুলিশের জালে। হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট মুসার হদিস এখনো পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গত বুধবার রাতে রাজধানীর কমলাপুরের কালভার্ট রোড থেকে একটি পাকিস্তানি রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলিসহ দামালকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির দাবি, টিপুকে হত্যার দুই মাস আগে কমলাপুরের রুপালি যুব উন্নয়ন সংঘ ক্লাবে যে বৈঠক হয় সেখানে উপস্থিত ছিল দামাল। আর টিপু ও কলেজছাত্রী সামিয়া আফরান প্রীতিকে গুলি করে হত্যায় গ্রেপ্তার শ্যুটার মাসুম মোহাম্মদ আকাশ বর্তমানে ডিবি পুলিশের রিমান্ডে রয়েছে।

ডিবি কর্মকর্তারা জানান, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দামালের এখন দলীয় কোনো পদ নেই। তবে এলাকায় তিনি যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত। কমলাপুর রেলওয়ে স্কুল অ্যান্ড কলেজের পেছনে রুপালি ক্লাবে তার আড্ডা ছিল। তার তথ্যের ভিত্তিতে ওই ক্লাবের পেছনের বস্তির একটি ঘর থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, হত্যার আগে দামালসহ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একাধিক গ্রুপের বৈঠক হয়েছিল।

মূল কিলার মাসুমকে রিমান্ডে নেওয়ার পর হত্যাকা-ের কারণ ও মাস্টারমাইন্ডের নাম পাওয়া গেছে। মাসুমের বিষয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, টিপুকে খুনের এক ঘণ্টা আগে খিলগাঁও বাসাবো এলাকা থেকে নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয় মাসুম। আর গুলি চালানোর দেড় ঘণ্টা পর মোবাইল খোলে। এর পর মোহাম্মদপুর জনতা হাউজিংয়ের একটি বাসায় যায়। রাত ৩টার দিকে ঘুমিয়ে পরদিন দুপুর ১২টায় ওঠে। এর পর ঢাকা থেকে পালিয়ে যায়। শ্যুটার মাসুমকে ভাড়া করেছিল মোল্লা শামীম। তার সঙ্গে শামীমই সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখত।

ডিবির মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) রিফাত মোহাম্মদ শামীম বলেন, টিপু হত্যার আগে দামালসহ কয়েকজন কমলাপুরের একটি ক্লাবে বৈঠক করেছিল। তাতে অংশ নেওয়া মারুফ ও শামীম নামের দুজনকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বাকিদেরও নাম পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

ডিসি আরও বলেন, দামালের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। সে মামলায় রিমান্ডে আনা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দামাল স্বীকার করেছেন, এ হত্যাকা-ে যাদের নাম এসেছে, সবার সঙ্গেই তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও মোটরসাইকেল এখনো উদ্ধার করা যায়নি। শ্যুটার মাসুমের দেওয়া তথ্য অনুসারে সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দামালের কাছে পাওয়া অস্ত্রটি হত্যায় ব্যবহৃত হয়েছে কিনা সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। কেননা, ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত গুলির খোসা অনুযায়ী হত্যার সময় দুটি অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্যাকআপ পার্টি হিসেবে কেউ ছিল কিনা, থাকলে তারা কারা এসবই তদন্ত চলছে।

গত ২৪ মার্চ রাত সোয়া ১০টার দিকে শাহজাহানপুরের আমতলায় মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। টিপুকে তার গাড়ির খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়। এ সময় এলোপাতাড়ি গুলিতে টিপুর ড্রাইভার মুন্না এবং পাশের রিকশা আরোহী বদরুন্নেসা কলেজের ছাত্রী প্রীতি গুরুতর আহত হন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে টিপু ও প্রীতিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ওই ঘটনায় শাহজাহানপুর থানায় একটি মামলা হয়। পরে গত রবিবার বগুড়া থেকে শ্যুটার মাসুমকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। পরদিন তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here