পুতিনের ঝুলিতে জমছে জনসমর্থন

0
31

ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের ছয় সপ্তাহ পূর্ণ হয়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এ যুদ্ধ নিয়ে রুশ নাগরিকদের মনোভাব বদলাচ্ছে। এ যুদ্ধের শুরুর দিকের তুলনায় এখন বেশিসংখ্যক রুশ নাগরিক দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সমর্থন দিচ্ছেন। এক জনমত জরিপ ও সাক্ষাৎকারে উঠে আসা চিত্রের এ খবর দিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হয়। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো দাবি করছে, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে এখন রাশিয়ার গণমাধ্যমে বাড়তি প্রচার (প্রোপাগান্ডা) চালানো হচ্ছে। তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, জনমত জরিপ ও সাক্ষাৎকারে দেখা গেছে, অনেক রুশ নাগরিক, যারা আগে যুদ্ধের বিরোধী ছিলেন, তারাও এখন ইউক্রেন প্রশ্নে পুতিনের অবস্থানকে সমর্থন করছেন। তারা এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, রাশিয়াকে অবরুদ্ধ করছে পশ্চিমারা। এ অবস্থায় ইউক্রেনে হামলা করা ছাড়া রাশিয়ার অন্য কোনো উপায় ছিল না। তবে যেসব রুশ নাগরিক প্রকাশ্যে ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন, তাদের এখন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। অনেকে দেশ ছাড়ছেন। অনেকে চুপ থাকার পথ বেছে নিচ্ছেন।

জরিপের তথ্য সম্প্রতি রাশিয়ার জরিপ প্রতিষ্ঠান লেভাদা একটি জনমত জরিপ প্রকাশ করেছে। জরিপে দেখা গেছে, এখন পুতিনের প্রতি ৮৩ শতাংশ রুশ নাগরিকের সমর্থন রয়েছে। অথচ গত জানুয়ারি মাসে তা ছিল ৬৯ শতাংশ। অর্থাৎ পুতিনের জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে।

লেভাদার জরিপে দেখা গেছে, ৮১ শতাংশ রুশ নাগরিক এ যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। তবে জরিপে এ-ও দেখা গেছে, ৩৫ শতাংশ রুশ নাগরিক বলেছেন, সত্যিকার অর্থে এ ব্যাপারে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। অর্থাৎ জরিপ অনুযায়ী, রুশ নাগরিকদের একটা তাৎপর্যপূর্ণ অংশ কোনো ধরনের আগ্রহ ছাড়াই এ যুদ্ধকে সমর্থন করছেন।

সাক্ষাৎকার ইউক্রেন সীমান্তবর্তী রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রোস্তভ-অন-দনের অধিকারকর্মী সের্গেই শালিগিন বলেছেন, তার দুই বন্ধু শুরুতে তার সঙ্গে গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তারা যুদ্ধের সমর্থক শিবিরে ভিড়েছেন। খ্যাতিমান রুশ সমাজবিজ্ঞানী সের্গেই বেলানোভস্কি বলেন, ‘আমি এখানে স্বতঃস্ফূর্ততা দেখছি না। বরং আমি এখানে যা দেখতে পাচ্ছি, তা হলো উদাসীনতা।’

টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাইবেরিয়ার একটি শহরের ব্যবসায়ী স্তানিসলাভ ব্রিকভ বলেন, যুদ্ধ খারাপ কাজ। কিন্তু রাশিয়াকে এ খারাপ কাজ করতে বাধ্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি ঐক্য প্রকাশ করা ছাড়া রুশ নাগরিকদের কিছু করার ছিল না। যে সেনাসদস্যরা তাদের জীবনবাজি রেখে রাশিয়ার স্বার্থ সুরক্ষায় কাজ করছেন, তাদের পাশে না দাঁড়ানোটা লজ্জার বিষয় হতো। মিখাইল নামের ৩৫ বছর বয়সী এক বন্ধুর কথা উল্লেখ করেন ব্রিকভ। তিনি বলেন, মিখাইল এক সময় সরকারের সমালোচনা করতেন। কিন্তু তিনি এখন মনে করেন, সব মতবিরোধ এখন দূরে সরিয়ে রাখার সময় এটা। মিখাইল বলেন, ‘আমাদের সীমানার বাইরে সব জায়গায় যখন আমাদের বিরুদ্ধে লোকজন সরব, তখন অন্তত এ সময়ের জন্য হলেও আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

সীমাবদ্ধতা : বিশ্লেষকরা অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনে হামলার জেরে রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে চলছে পশ্চিমারা। ফলে আগামী মাসগুলোয় রাশিয়া চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। আর তখন হয়তো রুশ নাগরিকদের মনোভাবে আবার বদল আসতে পারে।

কোনো কোনো পর্যবেক্ষক আবার বলছেন, যুদ্ধকালে পরিচালিত জনমত জরিপের তাৎপর্য সীমিত। কারণ, এ সময় অনেক রুশ নাগরিক ভিন্নমত প্রকাশ করতে ভয় পান। দেশটিতে পাস হওয়া নতুন আইন অনুযায়ী, কেউ ক্রেমলিনের বক্তব্যের বাইরে গেলে তার ১৫ বছরের কারাদ- হতে পারে। এ ভয়েও অনেকে প্রকৃত মত প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে পারেন।

১৬ মার্চ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, পশ্চিমাপন্থি রুশ নাগরিকরা নোংরা ও বিশ্বাসঘাতক। তাদের সমাজ থেকে উৎখাত করতে হবে। ইউক্রেনে রুশ অভিযান শুরুর পরের সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ায় ব্যাপক যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ হয়। এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র দেশজুড়ে ১৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন রাশিয়ায় যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ কমে এসেছে। যুদ্ধ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করায় নানা আশঙ্কা থেকে ইতোমধ্যে অনেক রাশিয়ান দেশ ছেড়েছেন। একটি বাণিজ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, কমপক্ষে ৫০ হাজার প্রযুক্তিকর্মী রাশিয়া ত্যাগ করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here