পদ্মা সেতুর উদ্বোধন নিয়ে জট খোলেনি

0
72

পদ্মা সেতু জুনে নাকি ডিসেম্বরে চালু হবে- এ জট এখনো খোলেনি। জুনে সেতু চালু হবে- বছরখানেক ধরে সরকার বলে এলেও গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০২২ সালের শেষ নাগাদ পদ্মা সেতু চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কাজ দ্রæতগতিতে এগিয়ে চলেছে।’ তার এ বক্তব্যের পর পদ্মা সেতু নির্মাণকারী কর্তৃপক্ষ সেতু বিভাগ পুরোপুরি নীরব।

অবশ্য গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, এটি অর্থবছরের হিসাব, যেটি শেষ হবে জুনে। এর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মালামাল আমদানি ব্যাহত হওয়ায় সেতুর উদ্বোধন পেছাতে পারে বলেছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। যদিও পদ্মা সেতু প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে কোনো মালামাল আমদানি আটকে নেই। শুধু সেতুর অ্যালুমিনিয়াম গার্ড রেল ওভার প্যারাপিট (রেলিং) দেশে আসা বাকি রয়েছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে কর্মরত প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন,

তারা এখনো জানেন জুনে সেতু চালু হবে। সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে। ডিসেম্বরে সেতু চালু হবে- এমন কোনো নির্দেশনা পাননি। একজন প্রকৌশলী বলেন, সরকারের অর্থবছর জুনে শেষ হয়। ‘২০২২ সালের শেষ নাগাদ পদ্মা সেতু চলাচলের জন্য উš§ুক্ত হবে’ বলে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার মানে জুনে সেতু চালু হবে। গতকাল একই ব্যাখ্যা দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। যদিও পরে তিনি বলেন, দৈবদুর্বিপাকের কথা মাথায় রেখে কিছু বাড়তি সময় হাতে রাখা হচ্ছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের একাধিক কর্মকর্তা গতকাল বৃহস্পতিবার জানান, রেলিং ছাড়া পদ্মা সেতুর আর কোনো মালামাল আমদানি বাকি নেই। যুক্তরাজ্যের ডিঅ্যান্ডজি কোম্পানি নির্মিত রেলিং গত মার্চে দেশে আনার পরিকল্পনা ছিল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জাহাজ পাওয়া যায়নি। এক মাস বিলম্ব হয়েছে এতে। গত বুধবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সেতুর কিছু মালামাল আমদানি বিঘিœত হয়েছে। যদিও তিনি পরে বলেন, সব কিছুরই মালামাল আসতে দেরি হচ্ছে। পদ্মারও হতে পারে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মাসখানেক বিলম্ব হলেও ৭৫ শতাংশ রেলিং নিয়ে জাহাজ গত ২৬ মার্চ যুক্তরাজ্য থেকে রওনা করেছে। ১৫ মে এটি চট্টগ্রামে পৌঁছবে। বাকি ২৫ শতাংশ রেলিং ২২ এপ্রিল কার্গো বিমানে আনা হবে। চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কাস্টম ছাড়ের ফলে ২০ মে এর মধ্যে মাওয়ায় আসবে রেলিং। মে মাসে মধ্যেই তা সেতুতে স্থাপনের কাজ শেষ হবে।

প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুর দুই পাশে সাড়ে ১২ কিলোমিটার রেলিং স্থাপন করা হবে তিন ফুট উঁচু দেয়ালের ওপর। সেতুর দুই প্রান্তে ভায়াডাক্টের ওপর আরও ছয় দশমিক এক কিলোমিটর রেলিং স্থাপন করা হবে। সব মিলিয়ে রেলিংয়ের দৈর্ঘ্য ১৮ দশমিক ছয় কিলোমিটার। রেলিংকে হ্যান্ড রেলও বলা হয়।

৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা সেতুর নির্মাণ চলছে। তবে সেতুর রেল সংযোগের কাজ অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এটি পৃথক প্রকল্প, বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সেতু প্রকল্পের আরেকটি সূত্রের ভাষ্য, সেতুতে একসঙ্গে ট্রেন ও গাড়ি চলাচল শুরু করতে আগামী ডিসেম্বরে চালু করা হতে পারে পদ্মা সেতু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here