‘যেনতেন ভোটের’ কৌশল মনে করে বিএনপি

0
64

মুরাদ হোসেন রিটন : বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে আনতে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন। বিষয়টিকে সরকারের আরেকটি ‘যেনতেন ভোটের’ কৌশল বলে মনে করছে বিএনপি। এ অবস্থায় দলটি তার আগের অবস্থানেই অনড় আছে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না তারা। এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদেশিরা নয়; দেশের সমস্যা দেশের মানুষকেই সমাধান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে।

বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাওয়া প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার আমাদের সময়কে বলেন, আমাদের সমস্যা আমাদেরই সমাধান করতে হবে। বিএনপিকে নির্বাচনে আনাই শুধু সমস্যা নয়; দুর্নীতিসহ আমাদের আরও অনেক সমস্যা রয়েছে। সব সমস্যা নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা হওয়া দরকার। এই উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচন কীভাবে হবে, সে জন্যও একটা রাজনৈতিক সমঝোতা দরকার।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা মনে করেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ‘ভোটারবিহীন নির্বাচন’ এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের ‘আগের

রাতের ভোট’ দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এ অবস্থায় বিএনপির পক্ষ থেকে সম্প্রতি নতুন একটি ফর্মুলা দেওয়া হয়েছে। সেখানে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- ‘নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষ সরকার এবং নির্বাচনের পর জনগণের ম্যান্ডেট পেলে রাষ্ট্র মেরামতে ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় সরকার গঠন করা হবে’। বিএনপি নেতারা মনে করেন, এ প্রস্তাবে সরকার বড় ধরনের চাপে পড়ে গেছে। এখান থেকে তারা চাপমুক্ত হতে চায়। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেন, এই সরকার আবারও যেনতেনভাবে একটা নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু এবারের পরিবেশ পরিস্থিতি তাদের অনুক‚লে নেই। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের রাষ্ট্র মেরামতের ফর্মুলা সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এ কারণেই চাপমুক্ত হতে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা দিচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি এতে লাভ হবে না। নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই। যুক্তরাষ্ট্র দুর্নীতিমুক্ত গণতান্ত্রিক ও মানবিক বিশ্ব গড়ার প্রতি জোর দিয়েছে। এর সুফল বাংলাদেশের জনগণও ভোগ করবে বলে মনে করেন এ নেতা।  

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সফর করে এসেছেন বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা জহির উদ্দিন স্বপন। দেশ ও দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, সরকার জেনে গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলে সেখানে বিএনপিসহ বিরোধী কোনো দল অংশ নেবে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মাধ্যমে তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে।

কোনো কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে জাতীয় সরকার গঠনের দাবি তুলেছে। বিএনপি মনে করে, এতে আওয়ামী লীগই লাভবান হবে। কারণ জাতীয় সরকার হলে আইনগতভাবেই এর প্রধান থাকবেন শেখ হাসিনা। এটি বুঝেই বিএনপি জাতীয় সরকারের নতুন ফর্মুলা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে সরকারের দিক থেকে আন্দোলনের মধ্যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি সর্বদলীয় সরকার গঠনের কথা বলা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ বড় চালাক। যখনই খুব চাপে পড়ে, তখনই বিরোধী দলকে বিভ্রান্তিতে ফেলতে আলোচনার প্রস্তাব দেয়। আমরা মনে করি এবারও এ ধরনের পরিকল্পনা তাদের আছে। বিএনপি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করে জনগণের ভোটে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে জাতীয় সরকার গঠন করে রাষ্ট্র মেরামতের কাজ করবে- এ ফর্মুলা বিএনপি দেওয়ার পর আওয়ামী লীগ বিচলিত হয়ে পড়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here