টিটিই শফিকুলের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

0
142

রেলের ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলামকে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়দানকারী তিন ব্যক্তিকে জরিমানার ঘটনার তদন্ত চলবে। এক্ষেত্রে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ২ দিন বাড়ানো হয়েছে।

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে কর্মকর্তা ( ডিআরএম) শাহীদুল ইসলাম রোববার (৮ মে) দুপুর ১২টায় এ আদেশ দেন। তিনি তার অফিস কক্ষে বেলা সাড়ে ১১টায় প্রেস ব্রিফিং চলাকালীন এ আদেশ দেন।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাকশী বিভাগীয় ট্রেন কন্ট্রোল অফিসে তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে। শুরুতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এ সময় অভিযোগকারী ও রেলমন্ত্রীর আত্মীয় ইমরুল কায়েস পাকশী বিভাগীয় ট্রেন কন্ট্রোল অফিসে প্রবেশ করেন। তবে তিনি সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে কর্মকর্তা (ডিআরএম) শাহীদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনা চলাকালে তিনি ছুটিতে ছিলেন। তিনি ছুটি শেষে রোববার সকালে অফিসে যোগ দিয়েছেন। এর আগে ভারপ্রাপ্ত ডিআরএম হিসেবে কর্মরত ছিলেন বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিন। এ আদেশটি যথাযথ ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি জানান, রেলওয়েসহ সব বিভাগে ভালো কাজের জন্য শুদ্ধাচার পুরস্কার দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে তদন্ত কাজে যদি প্রমাণিত হয় ওই টিটিই শফিকুল ইসলাম সঠিক কাজ করেছেন তাহলে তিনিও পুরস্কৃত হবেন। সেটা ধন্যবাদ জানিয়েও হতে পারে।
তিনি জানান, তদন্তের আগেই তাকে দীর্ঘ সময়ে সাসপেন্ড করে রাখা ঠিক হবে না বলে তিনি মনে করেন। কারণ তদন্তে দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে দোষী সাব্যস্ত করা ঠিক হবে না। এজন্য তিনি তাকে পুনর্বহালের আদেশ দিয়েছেন। শফিকুল অফিসিয়াল প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে কাজে যোগ দিতে পারবেন। একইসঙ্গে তদন্তের সময় ২ দিন বাড়িয়ে দিয়েছেন।

বরখাস্ত টিটিই মাদকাসক্ত বলে পাকশী রেলের ডিসিও (বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা) গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন এটি সঠিক কিনা? এমন প্রশ্নে ডিআরএম জানান, তিনি বিষয়টি বলেননি।

রেল মন্ত্রী বা তার পরিবারের কেউ টিটিইকে বরখাস্তের জন্য তার কাছে কোনোর তদবির করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, তার কাছে কেউ ফোন করেননি। একজন সাধারণ যাত্রীর সঙ্গে রেলওয়ে কর্মীদের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে টিটিই শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন তার সাময়িক বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে জেনেছেন। অফিসিয়াল নির্দেশ পেলেই তিনি কাজে যোগ দেবেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান বিভাগীয় সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম দুপুর সোয়া একটায় জানান, তদন্ত কাজের সঙ্গে জড়িত কেউ কেউ অন্য জায়গায় কর্মরত থাকায় সবাই উপস্থিত হতে পারেননি। এজন্য সুষ্ঠু তদন্তর জন্য তদন্ত কাজ ৩ দিনের স্থলে ৫ কার্যদিবস করা হয়েছে।

রেলের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাগামী আন্তঃনগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে ঈশ্বরদী রেল জংশন থেকে তিন যাত্রী বিনা টিকিটে এসি কেবিনের সিট দখল করে বসেন। এসময় ট্রেনে কর্তব্যরত টিটিই শফিকুল ইসলাম তাদের টিকিট দেখতে চাইলে তারা রেলপথমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দেন। টিটিই বিষয়টি পাকশী বিভাগীয় রেলের সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (এসিও) মো. নুরুল আলমের সঙ্গে পরামর্শ করেন। তিনি সর্বনিম্ন ভাড়া নিয়ে টিকিট কেনার পরামর্শ দেন।

এসিওর পরামর্শ অনুযায়ী- টিটিই শফিকুল ইসলাম ওই তিন যাত্রীকে এসি টিকিটের পরিবর্তে মোট এক হাজার ৫০ টাকা নিয়ে জরিমানাসহ সুলভ শ্রেণির নন-এসি কোচে সাধারণ আসনের টিকিট করে দেন। এসময় ট্রেনে কর্তব্যরত অ্যাটেনডেন্টসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পাকশী বিভাগীয় রেল সূত্র জানায়, ওই তিন যাত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনে লিখিত কোনো অভিযোগ করেননি। তবে তারা ঢাকায় পৌঁছে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে টিটিই শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণের’ অভিযোগ করেছেন। সেই অভিযোগ পেয়ে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিন টিটিই শফিকুল ইসলামকে বৃহস্পতিবার রাতেই সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেন। শুক্রবার থেকে আদেশ কার্যকর হয়।

বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে শনিবার (৭ মে) গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করা যাত্রীরা আমার আত্মীয় নয়, তাদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। মন্ত্রীর (আমার) নাম ভাঙিয়ে কেউ হয়তো সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’

এদিকে, রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়দানকারী তিন ব্যক্তিকে জরিমানার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া জরিমানার ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া রেলের ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলামকে কারণ দর্শানোরও নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের স্ত্রী শাম্মী আক্তারের ফোনেই টিটিই শফিকুল ইসলামকে বরখাস্ত করেন রেলের পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিটিও)। রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দেওয়া সেই তিন যাত্রী শাম্মী আক্তারের নিকটাত্মীয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here