আত্মগোপনে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা

0
145

রাস্তাঘাট নীরব, নিস্তব্ধ। কিন্তু কখনো কখনো নিঃশব্দই তো বড় বার্তা জানিয়ে দেয়। শ্রীলংকার রাজধানীর সুনসান, জনবিহীন রাস্তাগুলো সে রকমই বার্তা দিচ্ছে- কিছু একটা বদলে গেছে। বিরাট বাঁকবদলের মুখে দেশটি। প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের পদত্যাগের পর প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ও পুরো মন্ত্রিসভার পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। জনরোষের মুখে ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন সরকারদলীয় নেতারা। এমনকি সোমবার যে ভয়াবহ বিক্ষোভ হয়েছে, এর জেরে সেনাশাসনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। এরই মধ্যে জনতাকে বোঝাতে ব্যর্থ প্রশাসন কঠোর নীতি নিয়েছে, কারফিউ জারি আছে, পাশাপাশি ‘দুষ্কৃতকারীদের ওপর’ গুলি চালানোর হুকুম দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

সোমবার মাহিন্দার পদত্যাগের পর সেদিন রাতে ক্ষোভের চোটে চুরমারে মরিয়া হয়ে উঠেছিল ক্লান্ত হয়ে ওঠা জনতা।

সরকারপক্ষের নেতাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছিল, যানবাহনে আগুন দিয়েছিল, ভাঙচুর চলেছে সবখানে। কারফিউর জন্য মঙ্গলবার মানুষ না থাকলেও আগের রাতের ক্ষোভাগ্নির ছাপ ঠিকই দেখা গেল জায়গায় জায়গায়। কলম্বোর স্থানীয় গণমাধ্যম ডেইলি মিরর যেমন বলেছে, জ্বালিয়ে দেওয়া টায়ার থেকে এদিনও আগুন ও ধোঁয়া দেখা যাচ্ছিল। সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন দুই শতাধিক। নিহতদের মধ্যে পৌরসভার আইনপ্রণেতা রয়েছেন, যার বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছিল, তিনি হাসপাতালে মারা গেছেন। অন্যদিকে সোমবারই সরকারদলীয় এক আইনপ্রণেতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর কিছু আগে তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ছুড়েছিলেন।

পদত্যাগের পর মাহিন্দার বাসভবন ঘিরে রেখেছিল জনতা। তারা সে বাসায় ভাঙচুর চালিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কাঁদানে গ্যাস ও সতর্কমূলক গুলি ছুড়ে জনতাকে সরিয়ে মাহিন্দাকে সপরিবারে তার বাসা থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিবিসি জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা মঙ্গলবার ট্রিঙ্কোমালি নৌঘাঁটিতে গিয়ে জড়ো হচ্ছিল, কেননা খবর ছড়িয়ে পড়েছিল যে, ওই ঘাঁটিতে মাহিন্দা আশ্রয় নিয়েছেন, যা যাচাই করা বিবিসির পক্ষে সম্ভব হয়নি। সোমবার রাতে সব মিলিয়ে ৫০ রাজনীতিকের বাসায় আগুন দেওয়া হয়। মঙ্গলবার মাহিন্দার ছোট ভাই প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার বাসার সামনেও বিক্ষোভকারীরা তার পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন।

এসব পরিস্থিতি আঁচ করেই সোমবার আমাদের সময়-এর সাংবাদিক জাহাঙ্গীর সুরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক অশোক সোয়াইন বলেছিলেন, ‘চলমান রাজনৈতিক সংকট কিন্তু সামরিক অভ্যুত্থানের দিকেও ঠেলে দিতে পারে শ্রীলংকাকে।’

প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে গতকাল টুইটারে এক বার্তায় জনগণকে সংঘর্ষ বন্ধ করা ও শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য যা যা করা দরকার, সবই করা হবে।’

১৯৮৪ সালে ব্রিটেন থেকে স্বাধীন হয় শ্রীলংকা। এরপর সাত দশকের মধ্যে সবচেয়ে বিপর্যয়কর অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে দেশটি। জীবিকা নির্বাহের খরচ বেড়েছে এতহারে যে, জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। বিদেশি মুদ্রার মজুদ ফুরিয়ে গেছে। এমনকি সাধারণ মানুষ তিন বেলা খাবারও জোটাতে পারছে না। চিকিৎসা ও জ্বালানি ব্যয়ও সীমার চেয়ে বহু বেশি।

সরকার এজন্য দুষছে করোনা ভাইরাস মহামারীকে, যা শ্রীলংকার পর্যটন ব্যবসাকে একেবারে ধসিয়ে দিয়েছে। এ খাত থেকেই বেশি বৈদেশিক আয় করত দেশটি।

কিন্তু লোকে এবং সমালোচকেরা সবকিছুর জন্য সরকারের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here