গতিপথ পরিবর্তন ‘অশনি’র, রেড অ্যালার্ট জারি

0
136

ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’ হঠাৎ গতিপথ পরিবর্তন করেছে। এরপরই এটি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং বর্তমানে ওডিশা উপকূলের খুব কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ। অশনি এখন স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে অন্ধ্রপ্রদেশে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’র কারণে অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া উপকূলে ইতিমধ্যেই ১০ নম্বর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেইসঙ্গে কয়েকটি অঞ্চলে জারি রয়েছে ‘রেড এলার্ট’। ঝড়ের প্রভাবে এসব অঞ্চল বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকবে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিশাখাপত্তনম ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পরিচালক সুনন্দা বলেছেন, গতিপথ বদলে ঘূর্ণিঝড়টি কাকিনাড়া উপকূল স্পর্শ করতে পারে। এরপর সেটি আবার কাকিনাড়া ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যকার সমুদ্রে চলে যাবে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে তিনি বলেন, অন্ধ্র প্রদেশে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা ও রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এর আগে ঝড়ের গতিপথ উত্তর-পশ্চিম দিক দেখাচ্ছিল। কিন্তু গত কয়েক ঘণ্টায় এটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে। ঝড়টি এখন অন্ধ্র উপকূলের খুব কাছে।

ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের (আইএমডি) আগের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, ঝড়টি ক্রমাগত শক্তি হারিয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোবে। কিন্তু সেটি স্থলভাগে আঘাত হানার আশঙ্কা নেই। তবে ঝড়ের গতিপথ বদলে যাওয়ায় পূর্বাভাসও পরিবর্তন করা হয়েছে।

সুনন্দা বলেছেন, আগামী কয়েক ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড় অশনি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে এবং অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি চলে যাবে। বুধবার সকালে সেটি দিক পরিবর্তন করে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে কাকিনাড়া ও পূর্ব গোদাবরী উপকূল স্পর্শ করবে এবং তারপর পূর্ব দিকে বিশাখাপত্তনম উপকূলের দিকে সমান্তরালভাবে এগিয়ে যাবে।

ভারতীয় এ কর্মকর্তা আরও জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কাকিনাড়া, গণগাভরম এবং ভীমুনিপতনম বন্দরে ১০ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করেছে আইএমডি। এ ছাড়া বিশাখাপত্তনম, পূর্ব গোদাবরী, পশ্চিম গোদাবরী, কৃষ্ণা এবং গুন্টুরসহ অন্ধ্র প্রদেশের জেলাগুলোতে রেড অ্যালার্টও জারি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই অঞ্চলগুলোতে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ক্ষয়ক্ষতির সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া কাঁচা বসতবাড়ি, কাঁচা রাস্তা, কৃষি জমিও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এর পাশাপাশি অতি ভারি বৃষ্টির কারণে পানি জমতে পারে এমন জায়গাগুলো এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

এদিকে, দুর্ঘটনা এড়াতে ইতোমধ্যেই বিশাখাপত্তনম বন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া খারাপ আবহাওয়ার কারণে প্রায় ৩০টি বিমান বাতিল করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here